বাংলাদেশে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একত্রিত করার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনায় ওঠেছে নতুন বিতর্ক। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একত্রে যুক্ত করে গঠিত হতে যাচ্ছে একটি বৃহৎ নতুন ব্যাংক, যার সম্ভাব্য নাম “ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক”। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো নানা ধরনের আর্থিক দুর্বলতা মোকাবিলা করা এবং ব্যাংকিং সেক্টরে স্থিতিশীলতা আনা।
তবে সিদ্ধান্তটি বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটকারী শেয়ারহোল্ডাররা যুক্তি দেন যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর নির্দিষ্ট ধারা তাদের শেয়ারহোল্ডার অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি।
হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং কর্তৃপক্ষগুলোকে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, সমস্যাগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে আইনগত বৈধতা, শেয়ারহোল্ডার অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা — এগুলি ভবিষ্যতে ব্যাংকির নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাবি করেছে যে মার্জার ছাড়া বিকল্প ছিল না — কারণ একাধিক ব্যাংক আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল এবং তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাদের মতে, এই একীভূতকরণ ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনবে।
অপরদিকে, কিছু গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার উদ্বিগ্ন যে মার্জার ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের সাথে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি।
এই আইনি লড়াই শুধু একীকরণকে চ্যালেঞ্জ করছে না; এটি ব্যাংকিং রেগুলেশনে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা, শেয়ারহোল্ডার অধিকার এবং শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন তুলে ধরছে। আদালতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং পরিমণ্ডলে গুরুতর মাইলস্টোন হয়ে উঠতে পারে।
সিনিয়র রিপোর্টার: শেখ নাদিম হোসেন নিলয়
নিউজ রাইটার: তৌসিফ খান